ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিজাম উদ্দিন রণিক বলেন, আমার আম্মার হৃদয় হলো আমার প্রথম বিদ্যালয়। আমার আম্মার ভালোবাসার মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পৃথিবীতে আর নেই। আমার কাছে মায়ের ভালোবাসার চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই! মায়ের ভালোবাসা সবসময় তোমার সঙ্গে থাকে, কখনো হারায় না! আম্মা সেই মানুষ, যিনি অন্য সবার জায়গা নিতে পারেন; কিন্তু তার জায়গা কেউ নিতে পারবে না। আমার আম্মার ভালোবাসা আমাকে অসম্ভবকেও সম্ভব করার সাহস দেয়!
নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী মনিরা আক্তার মনি বলেন, প্রিয় মা, তুমি আমার জীবনের প্রথম ভালোবাসা, আমি বার বার তোমার প্রেমে পড়েছি।তুমি আমার প্রথম আশ্রয়। পৃথিবী যতই কঠিন হোক, তোমার মুখটা দেখলেই সব কষ্ট যেন হালকা হয়ে যায়। তোমার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ আর দোয়া আমাকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে। তোমার জন্যই বেঁচে আছি মা। আমি হয়তো সবসময় তোমাকে বলতে পারি না, কিন্তু তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমার সবচেয়ে খারাপ সময়ে তুমিই একমাত্র আমার পাশে ছিলে। তোমার হাসিটাই আমার শান্তি, আর তোমার কষ্টটাই আমার সবচেয়ে বড় ভয়। আল্লাহ তোমাকে সবসময় সুস্থ ও ভালো রাখুক। তোমার মতো মা পাওয়াটা সত্যিই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। তুমিই আমার বাবা তুমিই আমার মা। অনেক অনেক ভালোবাসা তোমায়।
সরকারি তিতুমীর কলেজের ছাত্র শাহারিয়ার ইকবাল বান্না বলেন, মা মানেই সন্তানের জীবনের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়। সাতক্ষীরার ছোট শহর থেকে আজ ঢাকায় পড়াশোনা করছি, কিন্তু জীবনের প্রতিটি ধাপে সবচেয়ে বেশি অনুভব করি মায়ের অবদান। ছোটবেলা থেকে অসুস্থ হলে মা-ই আমাকে হাসপাতাল নিয়ে গেছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেছেন, নিজের কষ্ট ভুলে আমার পাশে থেকেছেন। আজ ঢাকায় একা থাকি, নিজের কাজ নিজেকেই করতে হয়। ফাইনাল পরীক্ষার সময় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে একা চিকিৎসা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছি মায়ের শূন্যতা। পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্যদের মায়েদের দেখে বারবার নিজের মায়ের কথা মনে পড়েছে।
মেকআপ আর্টিস্ট মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মা কথাটি ছোট হলেও এর গভীরতা সীমাহীন; পৃথিবীর সবচাইতে মধুর শব্দ হলো ‘মা’।
কলেজ ছাত্রী ফাতিহা সিদ্দিকা ফারিন জানান, মা দিবস। মা'কে ভালোবাসতে কোনো দিবস লাগে? মা তো মা'ই। মা'র ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ব,কর্তব্য এর সাথে পৃথিবীর সকল কিছু মূল্যহীন। এই একটি দিন সোশ্যাল মিডিয়াতে মা'র জন্য ভালোবাসা না দেখাই! মা'কে ভালোবাসুন। অনেক সন্তান আছে যারা আজ মা'কে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অনেকেই আছেন তাঁরা মায়ের প্রতিদিন তো দূরের কথা মাসে বছরেও খোঁজ নেয় না।তাই লোক দেখানো ভালোবাসা নয় বরং মা'কে সত্যিকারে ভালোবাসুন ,সম্মান,শ্রদ্ধা ও যত্ন নিন।
একজন মা হিসেবে অনুভূতি জানাতে গিয়ে গৃহিণী লিপি আক্তার বলেন বলেন, মা হওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। সন্তানের মুখের হাসি দেখলেই সব কষ্ট ভুলে যাই। মা দিবসে শুধু মায়ের প্রতি ভালোবাসা নয় বরং প্রতিদিনই মায়ের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। বর্তমান সময়ে পরিবারে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গাঢ় হওয়া দরকার ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের খোঁজ নেওয়া জরুরি কখন সন্তানের ফোন আসবে কখন কাছে এসে মা বলে ডাকবে আমরা মায়েরা সেই অপেক্ষায় থাকি।
চাকরিজীবী মোঃ মশিউর রহমান বলেন, চাকরির কারণে সবসময় মায়ের কাছে থাকতে পারি না। কিন্তু প্রতিদিন অন্তত একবার ফোন করে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করি। কারণ মা অপেক্ষা করেন সন্তানের জন্য। মা দিবস মানুষকে মনে করিয়ে দেয়, জীবনের সব ব্যস্ততার মাঝেও মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালন করা জরুরি। আমার মা-ই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু
বর্তমান সমাজব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রবীণ নাগরিক রহিদুল ইসলাম মিন্টু বলেন, আগে পরিবারে সম্পর্কের বন্ধন অনেক শক্ত ছিল। এখন সবাই বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়েছে। তারপরও মায়ের প্রতি সম্মান কখনও কমা উচিত নয়। তিনি অনেকে মা হারানোর পর তার গুরুত্ব বোঝেন। অথচ মা বেঁচে থাকতেই তার পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। একজন মা পুরো সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম আবু রাফি বলেন, মা আমার হৃদয়ের সবচেয়ে গভীর আর নীরব কান্নামিশ্রিত কবিতা। তাঁর কোলে মাথা রাখলেই যেন পৃথিবীর সব ক্লান্তি হারিয়ে যায়। শৈশবের প্রতিটি অক্ষর তাঁর কণ্ঠে জেগে উঠেছিল, তাঁর স্নেহেই আমার স্বপ্নের শুরু। আমার প্রতিটি ব্যর্থতার অন্ধকারে তিনিই ছিলেন একমাত্র আলো। পৃথিবী যখন আমাকে বোঝেনি, মা তখনও নিঃশব্দে আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর চোখের বিশ্বাসই আমাকে বারবার ভেঙে গিয়েও গড়ে তুলেছে। মায়ের ভালোবাসা কোনো শব্দে ধরা পড়ে না, তা শুধু অনুভবে বাঁচে। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা আমার মা'কে দান করুন নেক হায়াত, শান্তি আর অফুরন্ত রহমত।
শিক্ষিকা আফজালুন্নেসা রুমি বলেন,আজ মা দিবস।আমার মা সহ পৃথিবীর সকল মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা।।গর্ভের প্রথম স্পন্দন থেকে একজন মায়ের জন্ম হয়।তারপর থেকে সন্তানে প্রতিটি নিশ্বাস মায়েরা গুনতে পারে যেন। সন্তানের সফলতায় মায়েরা বারবার নতুন জন্ম লাভ করে।কষ্ট পেলে প্রথম উচ্চারিত শব্দ হয় মা,আনন্দের দিনে প্রথম মনে পড়ে মা কে। সফলতা আর ব্যার্থতা পুরোটাই যেন মায়ের প্রাপ্তি। একজন মা হিসেবে আমি চাই অন্তত সন্তানেরা মায়েদের মনের কথা বুঝতে পারুক,অপুর্ণ স্বপ্নের পুর্ণতা দিক। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা মায়েদের ভালোবাসার ছবি দেখকতে পাচ্ছি। মা দিবস শুধু একদিনের একটা ছবি আপলোডে সীমাবদ্ধ না থেকে সবসময় ভালোবাসি বলার সুুযোগ করে দিক।সময়ের সঙ্গে সন্তানেরা বুঝতে শিখুক মায়ের গায়ের ঘ্রাণেও পৃথিবী জয়ের শক্তি থাকে।
ফাহিমা আক্তার বলেন, মা হিসেবে আমরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবসময় চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন থাকি। আমরা শুধু সন্তানের থেকে ভালোবাসা প্রত্যাশা করি শুধু সেটা না করে আসুন সন্তানকে সময় দেই,তাদের বন্ধু হই,পরিবারের কাছে সামাজিক মূল্যবোধ শেখাই। সন্তানদের সঠিক পথে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সম্মিলিত ভূমিকা প্রয়োজন।