বানারীপাড়া প্রতিনিধি
বরিশালের বানারীপাড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত শহিদ তাহিদুল ইসলামের (২১) মরদেহ ১৮ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের দক্ষিণ বড় চাউলাকাঠী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে তাঁর মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
মরদেহ উত্তোলনের সময় বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বায়েজিদুর রহমানের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান, থানার উপপরিদর্শক মো. ইসাহাক আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাহিদুলের বাবা-মা ও স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদুর রহমান জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তাহিদুল ইসলাম নিহত হয়েছেন কি না—তা নিশ্চিত করতেই মরদেহ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পুনরায় দাফন করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, তাহিদুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, তাহিদুল ইসলাম বরিশাল বিএম কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি রাজধানীর ফার্মগেটে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। তাহিদুলের মা লাভলী বেগম শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বড় ভাই তারিকুল ইসলাম বেকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তাহিদুল।
পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন তাহিদুল। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মরদেহ বরিশালের বানারীপাড়ার চাখারে গ্রামের বাড়িতে এনে ৬ আগস্ট সকালে ময়নাতদন্ত ছাড়াই দু’দফা জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তাহিদুলের বাবা কৃষক আব্দুল মান্নান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দরিদ্র পরিবারে তাহিদুলই ছিল তাঁদের প্রধান ভরসা। দিনমজুরির আয়ে সংসার চলে না। ছেলের স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা অর্জন করে যোগ্যতার ভিত্তিতে ভালো চাকরি পাওয়া এবং পরিবারে স্বচ্ছলতা আনা। জরাজীর্ণ ঘর ভেঙে একটি পাকা ঘর নির্মাণের স্বপ্নও ছিল তার। গুলিতে শুধু ছেলের জীবন নয়, সেই স্বপ্নগুলোরও মর্মান্তিক পরিসমাপ্তি ঘটেছে। তিনি সরকারের কাছে বড় ছেলের জন্য একটি চাকরির দাবি জানান।