মো: মাঈনউদ্দিন জিপু , বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ চারজনকে আটক করেছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
বুধবার (৩ জুন)২৬ সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট এলাকার পূর্ব পাশের রবীন্দ্র হাওলাদারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রবীন্দ্র হাওলাদার (৫৫) স্থানীয় বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী ঠাকুরানী হাওলাদার (৪৫) এবং দুই ছেলে হৃদয় হাওলাদার (২৫) ও রনি হাওলাদার (২২)।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকটি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় বহন ও অর্থ সংগ্রহ নিয়ে রবীন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিবেশী রতন ব্যাপারীর বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে একদিন আগেও উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, বুধবার সকালে পূর্ব বিরোধের ধারাবাহিকতায় রতন ব্যাপারী ও তাঁর সহযোগীরা রবীন্দ্র হাওলাদারের ওপর হামলা চালান। এ সময় লোহার পাইপ ও সাবল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বিভূতি সরকার জানান, হঠাৎ করেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে রবীন্দ্র হাওলাদারের মাথায় সাবল দিয়ে আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার আল কাইয়ুম জানান, সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। নিহত রবীন্দ্র হাওলাদারকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। আহত হৃদয়, রনি ও ঠাকুরানী হাওলাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা অবস্থায় অভিযুক্ত আনন্দ ব্যাপারী (৫৫), কুসুম রানী (৪৫), প্রদ্বীপ ব্যাপারী (২৭) ও রতন ব্যাপারীকে আটক করেছে পুলিশ।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।