কীর্তনখোলা রিপোর্ট
বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ আব্দুল হালিম। তিনি পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ - ২০২৬ এর শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক (মাধ্যমিক) নির্বাচিত হওয়ার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনি এই মর্যাদা লাভ করেন। ১৪/০১/২০২৬ তারিখে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা ও পটুয়াখালী জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হন। তার এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জনে তার বিদ্যালয়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। তার সহকর্মীবৃন্দ, শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকগণ তার এই সাফল্যে অত্যন্ত পুলকিত। পটুয়াখালী জেলার জন্য গৌরব বয়ে আনার জন্য এই জেলার সর্বস্তরের মানুষ তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে তার এই সাফল্যের খবর ভেসে বেড়াচ্ছে। তিনি ২০০৬ সাল থেকে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে চলেছেন। তিনি এ. এইচ. অরবিট ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি করে থাকেন। এজন্য লেখক হিসেবেও তার ভালো পরিচিতি রয়েছে। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে কলেজ অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (কোডা) ও ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইউডা) এই দুইটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি প্রভাষক অত্যন্ত সুনামের সাথে চাকুরি করেন। তিনি অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিতেও অফিসার পদে কিছুদিন সুনামের সাথে কাজ করেছেন। তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে ইংরেজি বিষয়ে অনেক যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং শিক্ষক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে অনেক শিক্ষকের এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের একজন অন্যতম প্রধান পরীক্ষক। তিনি তার এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি ২৪-তম বিসিএসসহ বেশ কয়েকটিবিসিএস পরীক্ষার মৌখিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। আলোচিত ২৭-তম বিসিএস পরীক্ষায় তিনি ০২ বার মৌখিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ২৮-তম বিসিএস পরীক্ষায় তিনি চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন, কিন্তু ক্যাডার পদে স্বল্পতার দুর্ভাগ্যজনক কারণে তিনি নিয়োগ বঞ্চিত হন। এজন্য তার মনঃকষ্ট আছে। তবে এবার বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষকের মর্যাদা লাভ করায় তার কষ্ট একটু লাঘব হয়েছে বলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা ও পটুয়াখালী জেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার বিভাগে বিজয়ী হয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত হয়েছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে ভালো ফলাফলের জন্য তিনি অনেক আশাবাদী। তিনি বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ে অনেক দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক আছেন। কিন্তু পদোন্নতির সুযোগ খুব কম থাকায় অনেক শিক্ষক হতাশার তিমিরে নিমজ্জিত রয়েছেন। তার মতে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সেবা জাতির জন্য নিশ্চিত করতে হলে তাদেরকে ধাপে পদোন্নতি দিয়ে তাদের সম্মানিত করতে হবে। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার কাদাই বাদলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল জলিল এবং তার মাতার নাম আলহাজ্ব মোছাঃ হাওয়া খাতুন। তিনি তার পিতা-মাতার পাঁচ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। তার শিক্ষক বাবার কাছেই তার ইংরেজি শিক্ষার হাতেখড়ি। তার বাবা বিভিন্ন মজাদার পদ্ধতিতে তাকে ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি বিষয়ের প্রতি আগ্রহী করে তোলেন। তার এই সাফল্যের পেছনে তার বাবার ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও তিনি তার ইংরেজি শিক্ষক জনাব মোঃ শহীদুল ইসলামকে বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি বিজ্ঞ বিচারকমণ্ডলী ও তার সকল শুভানুধ্যায়ীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি যেন জাতির সেবায় নিয়োজিত থেকে ভবিষ্যতে আরও অনেক সফলতা লাভ করতে পারেন সেজন্য সকলের নিকট দোয়া প্রার্থী।