কীর্তনখোলা রিপোর্ট

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ন করতে বরিশালে প্রশাসনের অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নির্বাচনকে শংকামুক্ত করতে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় আইন শৃংখলা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন সচেতন মহল। এ দিকে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় জনমনে নির্বাচনকে ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক। আবার এরই মধ্যে বরিশালের কয়েকটি ঘটনা জনমনে আতংক তৈরী করছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটছে। ৩দিন আগেই নগরীরর রিফিউজি কলোনীতে দুই পক্ষের আধিপত্য প্রদর্শনের সময় রাতে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এ সময় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে এক পক্ষ দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহার করায় স্থানীয় জনসাধারনের মন্যে আতঙ্ক তৈরী হচ্ছে। স্থানীয় দুইটি পক্ষ মাদক ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট চালায়। তাদের রক্ষার জন্য প্রায়শই নিজেদের মধ্যে অস্ত্র মহড়া দিয়ে বাসিন্দাদের আতঙ্কিত করে রাখে। পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না। নগরীর বিসিক এলাকার আকবর নামের এক ব্যক্তির কাছে একটি পুরোনো স্টিলের আলমারি মেরামতের জন্য দেন জাকির হোসেন। মেরামতের সময় আলমারির ভেতর থেকে সাত রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। পরে আকবর গুলিগুলো উদ্ধার করে কাউনিয়া থানা পুলিশের কাছে জমা দেন। পুলিশ গুলিগুলোর কোনো বৈধতা না পেয়ে জাকিরকে আটক করে। নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন পথে বরিশালে অস্ত্র ঢুকছে বলেও শোনা যাচ্ছে। সড়ক পথ ও নৌপথে বরিশালের একাধিক স্থানে অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর কীর্তনখোলা নদীর তীরঘেষা রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও পলাশপুর এলাকায় এসব অস্ত্র মজুত হচ্ছে। মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, রাতের শেষ দিকে লবণবোঝাই ও মাছের ট্রলারে পিস্তল, দা ও মাদক নিয়ে আসা হয়। পরে তা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেয় একটি সঙ্গবদ্ধ চক্র। শহরের বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব হারিছ উদ্দিন বলেন, সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নদীর তীর ধরে মাদক কেনাবেচার পাশাপাশি সন্দেহজনক ট্রলারের আনাগোনা দেখা যায়। মূলত সড়কের পাশাপাশি বরিশালের নৌপথের মাধ্যমে এসব অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ হচ্ছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগরের সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের ৫ আগস্টের পর সারা দেশের থানা থেকে যে অস্ত্র লুট হয়েছে তার বৃহৎ অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকে, কিন্তু এবারের নির্বাচনে আগ মুহূর্তে সেই তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না, যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. আব্দুল হান্নান এ বিষয়ে জানান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বরিশালের কোনো থানায় অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান পুলিশের অপরাধ বিভাগের এ জেষ্ঠ কর্মকর্তা। 


বিজ্ঞাপন
Advertisement