এম জামান

বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে একাধিকবার বরিশাল আগমন করেন। এরমধ্যে সর্বপ্রথম ১৯৭৮ সালের নভেম্বর মাসে তিনি বরিশাল সফর করেন। সফরকালীন সময়ে তিনি এখানকার সার্কিট হাউজে অবস্থান করেন। রাষ্ট্রীয় এ সফরে তিনি বরিশালের স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন। 

এছাড়াও একটি জনসভায় বক্তব্য প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে আয়োজিত এ জনসভায় বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও উন্নয়ন নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন জিয়াউর রহমান। এ সময় তিনি বরিশালে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এর পরবর্তীতে আবারও বরিশাল সফরে আসলে তিনি বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় কৃষি ও সেঁচ প্রকল্প পরিদর্শন করেন। জনগণকে স্বেচ্ছাশ্রমে উদ্বুদ্ধ করতে সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সভা করেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।

 ১৯৭৯ সালের এই সফরে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া এলাকায় একটি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাতে কাটা এ খালটি “স্বনির্ভর খাল” নামে পরিচিত। এছাড়াও তিনি গ্রামীণ অবকাঠামো এবং বরিশালের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ ও দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যৌথসভা করেন এ সফরে। সাধারণ জনগণের সাথে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সরাসরি কথোপকথন ও মতবিনিময় ছিল এ সফরের অন্যতম আকর্ষণ।

 তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের সাথে খোলামেলা মতবিনিময় করেন। তাদের সুবিধা-অসুবিধা ও চাওয়া-পাওয়া নিয়ে একজন সাধারণ মানুষের মতোই আলাপ আলোচনা করেন জিয়া। কৃষক-শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষেরা তাকে কাছে পেয়ে, তাঁর সাথে কথা বলতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। জিয়ার সাথে কথা বলা অনেকেই পরবর্তীতে সংবাদ মাধ্যমে জানান, তারা যেন প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাথে নয়, তাদেরই একজনের  সাথে কথা বলছিলেন। 

বরিশালে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন শেষে তিনি ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে এক জনসভায় অংশগ্রহণ করে তিনি বরিশাল ত্যাগ করেন। বরিশালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সর্বশেষ ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সফর ছিল ১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বরের সফর। জিয়ার এই সফর বরিশালে এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলো। রাজধানী ঢাকাস্থ সচিবালয়ের বাইরে বরিশালে মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক আয়োজন করে বরিশালকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান প্রেসিডেন্ট জিয়া। মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক এ বৈঠকেই বরিশালে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়। 

ডেফুলিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর
সংগৃহীত

এছাড়াও বরিশালে রেল লাইন চালু করার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও করা হয় সেই বৈঠকে। মৃত্যুর আগে বরিশালে তাঁর এ শেষ সফর এসব নানাবিধ কারণেই অনেক গুরুত্ব বহন করে। আততায়ীর হাতে তাঁর মৃত্যু না হলে বরিশালবাসী অনেক আগেই এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পেতো। যদিও তাঁর স্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরবর্তীতে সরকার গঠন করলে বরিশালের ডেফুলিয়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রকল্প অনুমোদন দেন। জিয়াউর রহমানের অকাল মৃত্যু না হলে বরিশালে রেলগাড়ির ঝিঁক-ঝিঁক শব্দ শোনা যেত বহু আগেই। তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নিরাপদ রেলভ্রমণ থেকে আজও বঞ্চিত বরিশালবাসী। তাঁর মৃত্যুতে এরকম অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হয়েছে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চল। ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বরিশালবাসীর পক্ষ থেকে তোমায় গভীর শ্রদ্ধা স্বাধীনতার মহান ঘোষক, রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)।    


বিজ্ঞাপন
Advertisement