এম জামান
রবিবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি নগরীতে। নিম্ন তাপমাত্রার সাথে কুয়াশাঘেরা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে সমগ্র বরিশাল। অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউই ঘর ছেড়ে বের হচ্ছেন না। কুয়াশায় ঢাকা বরিশাল নগরীতে কনকনে শীতে জনজীবন একরকম বিপর্যস্ত। শীতের তীব্রতায় খেটে খাওয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অনেকটাই প্রভাব পড়েছে গত কয়েকদিন। আয় রোজগার কমে যাওয়ায় আর শীতের তীব্রতায় খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে হতাশা ভর করেছে। অব্যাহত শীতের দাপটে জনস্বাস্থ্যে উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বরিশাল জেনারেল হাসপাতালসহ অনেক হাসপাতালেই নিউমোনিয়া ও ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। হাসপাতালের মেঝেতেও রোগীর স্থান সংকুলান হচ্ছেনা। ওষুধের অপ্রতুলতা এ সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্য কর্মীদের কাজের চাপ বেড়েছে কয়েকগুন। সকাল ৯টায় বরিশাল জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এটাই ছিল এ বছরে বরিশালে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড। মৌসুমের হঠাৎ করেই বরিশালে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। শীতের পাশাপাশি বইছে হিমেল বাতাস। ফলে জেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন কেউ। বরিশাল আবহাওয়া অফিসে সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মাজাহারুল ইসলাম বলেন, সকালে এ মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার ১২ দশমিক ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। সেসময় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিকে বেলা ১২টার পর্যন্ত বরিশালের কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। এ সময় পুরো জেলা ছিল হালকা কুয়াশাচ্ছন্ন।
বেলা ১২টার পর বিভিন্ন স্থানে
সূর্যের দেখা মিলেছে। নগরীর বাংলাবাজার এলাকার অটোরিকশা চালক রানা জানান, গত দুই তিনদিন
ধরে বরিশালে এমন ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করছে। রাস্তায় লোকজনও তেমন বের হচ্ছে না। এতে
গাড়ি চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অপরদিকে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল বোরো বীজতলা
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চলতি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৩.৮৫ লাখ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যে
২০,৩১৭ হেক্টরে বোরো বীজতলা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু অব্যাহত শৈত্য প্রবাহে বীজতলা
‘কোল্ড ইনজুরি’র কবলে। এদিকে ঘস কুয়াশায় সড়ক পথে এবং নৌপথে দুর্ঘটনাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য
হারে। গত কয়েকদিনে ঘন কুয়াশায় ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে একাধিক লঞ্চ দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া
গেছে। অসাবধানে চলাচলে দুর্ঘটনার কারনে ৩টি লঞ্চের ‘রুট পারমিট’ বাতিল করা হয়েছে। বরিশালে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সকালের ফ্লাইট দুপুর ১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ডানা মেলতে
পারেনি আকাশে। বরিশাল বিমান বন্দরের ভিসিবিলিটি ১ হাজার মিটারের নিচে চলে যাওয়ায় তৈরী
হয়েছে সংকট। বরিশাল ও ঢাকা বিমানবন্দরে তাই অনেক যাত্রী আটকা পড়ে রয়েছেন। আবহাওয়া পর্যবেক্ষক
মাজহারুল ইসলাম বলেন, আগামী কয়েকদিন বরিশালে এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। ডিসেম্বরের
এ সময়ে এমন আবহাওয়া স্বাভাবিক নয় বলেও জানান তিনি। ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ
ঘোষণা: এদিকে ঘন কুয়াশা ও নদীতে অসংখ্য ডুবো চরের কারনে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীবাহী সকল লঞ্চের যাত্রা বাতিল
করেছে। গতকাল সন্ধ্যায় বরিশাল নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সোলায়মান
হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে দেয়া নির্দেশ অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে
৬টা থেকে বরিশাল থেকে সব রুটের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না
দেয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। জানা গেছে, ঘন কুয়াশা আর ডুবো চরের কারনে
বরিশাল থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলো প্রায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ কারণে আবহাওয়া
পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকবে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।