আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় চলতি বোরো মৌসুমে চাষীরা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন সম্পন্ন করেছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের অধিকাংশ শাখা খাল গুলিতে চাষীদের চাহিদা মত পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সামনে পানি সরবরাহ আরো প্রকট আকার ধারণ করবে এ আশঙ্কায় তাদের কপালে চিন্তার ভাজ দেখা দিয়েছে। আগামীতে আশা অনুরূপ ফলন নিয়ে চাষিরা দুশ্চিন্তায় ভুগছে। সরেজমিনে দেখা গেছ উপজেলার রাজিহার-রাংতা- কুমার ভাঙ্গা ৫ কিলোমিটার এলাকায় রাংতা মন্দির সংলগ্ন ব্লক, গঙ্গাস্নান ব্লক, পাকাড্রেন ব্লক,কালিখোলা ব্লক,পূর্বপাড়া ব্লক, মইজদ্দিনের ব্লক, চলাইরপার ব্লকসহ ছোট-বড় ১১ টি ইরি-বোরো ব্লকে ১ হাজার ৪শত একর জমি রয়েছে, যার চাষীর সংখ্য প্রায় ৩ হাজার ৩শ। ইতিমধ্যেই ওই এলাকার চাষিরা (টিপি ও মৌসুমী) বোরো চারা রোপন সম্পন্ন করেছে। তবে খালে কচুরিপানা ভর্তি, অনেক জায়গায় সামান্য পানি থাকলেও খালের উপর ৩টি স্থানে ঠিকাদার নতুন ব্রীজ নির্মাণ করার সময় ২ পাশে মাটির বাঁধ দিয়ে ব্রীজ নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজ শেষ হলেও ঠিকাদার ওই মাটির বাদ অপসারণ না করায় খালে পানি চলাচল বাধাগ্রস্থ হয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। ওই এলাকার বোরো ব্লকের চাষীরা পানি না পাওয়ায় ধানের জমি রক্ষার্থে নিজ উদ্যোগে ব্লকের ম্যানেজার ও চাষী নাজমুল ইসলাম, আলামিন হাওলাদার, সোবহান সরদার, সাইফুল আকন, নুরু বয়াতি, সবুজ ও কালু হাওলাদারসহ অসংখ্য চাষী খালের কচুরিপানা ও মাটির বাঁধ অপসারণ শনিবার শুরু করেছে। রাংতা গ্রামের ¯’ানীয় প্রবীণ ব্যক্তি সোবহান সরদার জানান এইখালে এক সময় পানি ভরা থাকতো আমরা খালের পানি দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতাম। এখন পানির অভাবে ক্ষেতের ধানে পানি দেবার মত পানিও পাচ্ছিনা। এ বিষয়ে কালীখোলা বোরো ব্লকের ম্যানেজার আলামিন হাওলাদার বলেন জমিতে ধানের চারা রোপন করেছি, চারা বাঁচিয়ে রাখতে হলে পানির দরকার, তাই আমরা সবাই মিলে খালের কচুরিপানা পরিষ্কার ও বাদ কাটছি। রাংতা গ্রামের মালেক আকনের ছেলে চাষী ও ম্যানেজার  সাইফুল আকন জানান এই খালের উপর তিনটি ব্রীজ নির্মাণের সময় খালে বাধ দেয় ঠিকাদার, ব্রিজ নির্মাণ শেষ হলেও  ঠিকাদার বাদ অবসারণ না করে ফেলে রেখে চলে যায়, এ কারনে আমরা বোরো মৌসুমে ব্লকে পানি পাচ্ছিনা। এ ব্যাপারে আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইছা বলেন, রাজিহার-কুমারভাঙ্গা খালে বাঁধ নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই, আমি অবগত হয়ে দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে নিয়মবহির্ভূত ভাবে খালে বাঁধ থাকলে কৃষকের সুবিধার্থে তা অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।


বিজ্ঞাপন
Advertisement