ছবি: কনডম
সংগৃহীত

ইতিহাস বলছে, কনডমের ব্যবহার আজকের নয়। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন মিশরে লিনেন কাপড় বা পাতলা আবরণ দিয়ে তৈরি সুরক্ষামূলক সামগ্রীর ব্যবহার ছিল। যদিও সেগুলোর উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে ধারণা করা হয় রোগ প্রতিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্যই সেগুলো ব্যবহৃত হতো।

১৫৬৪ সালে ইতালীয় চিকিৎসক গ্যাব্রিয়েল ফ্যালোপিও প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে লিনেন দিয়ে তৈরি একটি সুরক্ষামূলক আবরণের বর্ণনা দেন। সে সময় ইউরোপজুড়ে সিফিলিস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল, আর এটি মূলত সেই রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হতো।

পরবর্তী সময়ে কনডম তৈরির উপাদানে আসে পরিবর্তন। প্রাণীর অন্ত্র, চামড়া ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি কনডম ইউরোপে ব্যবহার শুরু হয়। তবে উচ্চমূল্য ও সীমিত উৎপাদনের কারণে এটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল।

উনিশ শতকের শিল্পবিপ্লব কনডম শিল্পে বড় পরিবর্তন আনে। ১৮৩৯ সালে চার্লস গুডইয়ার রাবারের ভলকানাইজেশন প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করলে কনডম আরও টেকসই ও নমনীয় হয়। এরপর ১৯২০-এর দশকে ল্যাটেক্স কনডম বাজারে আসে। পাতলা, সাশ্রয়ী ও ব্যবহারবান্ধব হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বর্তমানে কনডম প্রধানত ল্যাটেক্স, পলিউরেথেন ও পলিআইসোপ্রিন দিয়ে তৈরি হয়। ল্যাটেক্স আসে রাবার গাছ থেকে, আর বাকি দুটি সিন্থেটিক উপাদান। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে লুব্রিকেন্ট যুক্ত করা হয়। যাদের ল্যাটেক্সে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য বিকল্প উপাদানের কনডমও বাজারে রয়েছে।

বিশ্বে কনডম উৎপাদনের অন্যতম বড় কেন্দ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, চীন ও ভারত এই শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম প্রাকৃতিক রাবারের বড় সরবরাহকারী দেশ। অনুকূল আবহাওয়া, সহজলভ্য কাঁচামাল ও কম উৎপাদন ব্যয়ের কারণে এ অঞ্চলে এই শিল্প দ্রুত বিকশিত হয়েছে।

প্রয়োজনীয় পণ্য হলেও কনডমের একটি বিলাসবহুল বাজারও রয়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড প্রচারণার অংশ হিসেবে স্বর্ণের প্রলেপযুক্ত বা বিশেষ সংস্করণের কনডম বাজারে এনেছে, যার দাম কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কনডমের দাম বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যাঘাত এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি। যেসব দেশ আমদানিনির্ভর, তারা এসব পরিবর্তনের প্রভাব বেশি অনুভব করছে।

সব মিলিয়ে কনডম এখন আর শুধু ব্যক্তিগত ব্যবহারের একটি পণ্য নয়; এটি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উদাহরণ এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিরও একটি অংশ। ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজ কনডম এক নীরব বিপ্লবের নাম।

বিজ্ঞাপন
Advertisement