কীর্তনখোলা ডেস্ক
স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে সূচনালগ্নে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ড্রয়ের স্মৃতিই যেন বারবার ফিরে আসে। ১৯৭৩ সালে মারদেকা কাপে ১-১ ড্রয়ের পর থেকে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আর সুখকর ফল পায়নি বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ফিফা প্রীতি ম্যাচ কিংবা এক দশক পর এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে নিজেদের মাঠে ১-২ গোলে হারের প্রতিশোধও নিতে পারেনি দলটি। ৫৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষম সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিপুল সমর্থন থেকেও প্রেরণা নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপ থেকে বিদায়ের শঙ্কা আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তারপরও অন্তত একটি পয়েন্ট নিয়ে ফেরার আশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু র্যাঙ্কিংয়ে ৩২ ধাপ এগিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরে বাছাইপর্ব শেষ করে বাংলাদেশ। ৪-৩-৩ ফরমেশনে দুটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান কোচ হাভিয়ের কারবেরা, যার লক্ষ্য ছিল মধ্যমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। গোলরক্ষক মিতুল মারমা ও মোরসালিনের ফেরায় দল কিছুটা প্রাণ ফিরে পায়। বল দখলে স্বাগতিকদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে বাংলাদেশ। বল দখল ছিল প্রায় সমান, শট অন টার্গেটও ২-২। আক্রমণের সংখ্যায় বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ১৪-৫ ব্যবধানে। তবে কৌশলগত দিক থেকে এগিয়ে থেকে ম্যাচের ফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। ৩১তম মিনিটে ডিফেন্ডার তপুর ভুলে একমাত্র গোল হজম করে বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের বিপক্ষে ০-৩ গোলে হারের প্রভাব পড়েছে এই ম্যাচেও। প্রথমার্ধে স্ট্রাইকিং লাইনের খেলোয়াড়রা লক্ষ্যভেদী কোনো শট নিতে পারেনি। তবুও ১৪তম মিনিটে সেরা সুযোগ পায় বাংলাদেশ। সাদ উদ্দিনের ক্রস থেকে সমিত সোমের হেড বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।৩১তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল পায় সিঙ্গাপুর। মিতুল মারমা প্রথম শট ঠেকালেও বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় রক্ষণভাগ। ইখসান ফান্দির পাস থেকে হারিস স্টুয়ার্ট গোল করেন। ৩৯তম মিনিটে সমতার সুযোগ নষ্ট হয়। ফাহিমের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটে পেনাল্টির দাবি উঠলেও রেফারি তা নাকচ করেন। দ্বিতীয়ার্ধে পরিকল্পিত ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। ৭২তম মিনিটে পরিবর্তনের পর শেষ সময়ে একতরফা আক্রমণ চালায় দলটি। হামজা চৌধুরীও আক্রমণে উঠে এসে চেষ্টা করেন গোলের। ৭৫তম মিনিটে হামজার শট বাইরে চলে যায়। ৭৯তম মিনিটে মিরাজুলের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় বাংলাদেশকে।