কীর্তনখোলা ডেস্ক

শুরু থেকেই উত্তর কোরিয়ার লাগাতার আক্রমণ ঠেকিয়ে প্রথমার্ধ গোলশূন্য রেখে বিরতিতে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে দুই মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল হজম করে লাল-সবুজের মেয়েরা। দ্বিতীয়ার্ধেও দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ, তবে আবারও দুই মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল খেতে হয়। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে হারের এই ম্যাচে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ছিল গোলকিপার মিলি আক্তারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। এএফসি এশিয়ান কাপে শুক্রবার সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। এদিন প্রথমার্ধে হয়েছে দুটি গোল, আর দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিনটি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে চীনের কাছে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে দুই ম্যাচে মোট সাতটি গোল হজম করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বিপরীতে প্রতিপক্ষের জালে একবারও বল জড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। পরপর দুই ম্যাচ জিতে ‘বি’ গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। এর মধ্যেই তারা নিশ্চিত করেছে সুপার এইটে জায়গা। এক ম্যাচে এক জয় নিয়ে তিন পয়েন্ট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে চীন। আজ দুপুর ২টায় উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে চীনের মেয়েরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরে জয়ের খোঁজে থাকা উজবেকিস্তান রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে। এদিন কোরিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের হার আরও বড় ব্যবধানে হতে পারত। তবে আগের ম্যাচের মতোই এই ম্যাচেও গোলকিপার মিলি আক্তার অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে অন্তত ছয়টি নিশ্চিত গোল তিনি রুখে দিয়েছেন। এমনকি ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতেও তিনি প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ব্যর্থ করেছেন। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা দলের বিপক্ষে হার অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। তবে ব্যবধান আরও বড় হতে দেননি ২০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক। এ ছাড়া বাংলাদেশের হয়ে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি অন্য কেউ। অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার আগের ম্যাচের মতোই ছিলেন নিস্প্রভ। তাঁর একটি ভুল থেকেই ডেডলক ভাঙে উত্তর কোরিয়া। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের নিখুঁত পাসিং ফুটবলের কার্যকর কোনো জবাব দিতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা।পঞ্চম মিনিটেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েন মিলি আক্তার। বক্সে ঢুকে হান জিং হংয়ের নেওয়া দ্রুতগতির শট চমৎকার ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি। যদিও পরে দেখা যায় কোরিয়ান ফরোয়ার্ড অফসাইডে ছিলেন। ১১ মিনিটে আবারও উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ রুখে দেন মিলি। এবারও ফরোয়ার্ড হান জিন হংকে হতাশ করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। মিলির এই নৈপুণ্য ছাড়া ওই সময় পর্যন্ত বাংলাদেশকে কিছুটা এলোমেলোই দেখাচ্ছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৪ মিনিটের মাথায় গোলের দেখা পায় উত্তর কোরিয়া। বক্সের ভেতর বল পেয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড কিম কিয়ং ইয়ং। তবে হ্যান্ডবলের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায় এবং এই যাত্রায় বেঁচে যায় বাংলাদেশ। ২৬ মিনিটে আবারও ভিএআর রিভিউয়ে স্বস্তি পায় বাংলাদেশ। কিম সং ইয়ংয়ের কর্নার থেকে হ্যান ঝিং হংয়ের হেড ঠেকিয়ে দেন মিলি। তবে মিলির হাতে লেগে ফেরত আসা বলে শট নিয়ে গোল করেন মিও ইয়ো ঝং। ৩১ মিনিটে আবারও জালে বল পাঠায় কোরিয়া, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করা হয়। প্রথম আধাঘণ্টায় বাংলাদেশের হয়ে কোনো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেননি ঋতুপর্ণা বা মনিকারাও। প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন আফঈদা ও নবিরনরা। বাংলাদেশের বক্সজুড়ে পুরো সময়ই আতঙ্ক ছড়িয়েছে কোরিয়ান খেলোয়াড়রা। দুই উইং দিয়ে একের পর এক ক্রস এসেছে, আর তাদের ফরোয়ার্ডরা প্রায়ই ছিলেন আনমার্ক অবস্থায়। ৩৮ মিনিটে কিয়ং ইয়ংয়ের হেড বার থেকে ফিরে আসে। পেনাল্টির আবেদন উঠলেও ভিএআরের সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের পক্ষেই। দুই মিনিট পর হান ঝিং হংয়ের শট ঠেকাতে বাঁদিকে ঝাঁপ দেন মিলি, তবে বলের নাগাল পাননি। বল দূরের পোস্ট দিয়ে বাইরে চলে যায়। বিরতির আগেই তিনটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ। মাঠে নামেন স্বপ্না রানী, আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী ও উমেহ্লা মারমা। মাঠ ছাড়েন শামসুন্নাহার জুনিয়র, আইরিন ও তহুরা। যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আবারও দুর্দান্ত সেভ করেন মিলি। পরের মিনিটেই পেনাল্টি পায় কোরিয়া। বক্সের ভেতর হান ঝিংকে ফেলে দেন আফঈদা, এরপর রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পটকিক থেকে সফলভাবে গোল করেন মিয়ং জং। দুই মিনিট পর কিম কিয়ং ইয়ংয়ের গোলে জোড়া ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় কোরিয়া। এই গোলের সময়ও ডিফেন্ডার হিসেবে ছিলেন আফঈদা। ট্যাকল করার বদলে লাফিয়ে ওঠায় তাঁর পায়ের নিচ দিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠান কোরিয়ান ফরোয়ার্ড। আগের ম্যাচেও আফঈদার একটি ভুলের মাশুল দিতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। তবে রক্ষণভাগ থেকে আফঈদাকে নয়, নবিরনকে তুলে বিরতির পর উন্নতি খাতুনকে মাঠে নামান কোচ। এই ম্যাচের মাধ্যমে সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক হয় ২০ বছর বয়সী উন্নতির। ৬০ মিনিটের মধ্যে পরপর দুটি সেভ করেন মিলি। কিছুক্ষণ পরই দুই মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৬২ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার হয়ে তৃতীয় গোল করেন চা উন ইয়ং। গোলকিপারের এগিয়ে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোল করেন কিম কিয়ং ইয়ং। ৭০ মিনিটে আবারও অসাধারণ সেভ করেন মিলি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে ব্যবধান ৫-০ করেন কিম হাই ইয়ং। শেষ পর্যন্ত এই স্কোরলাইন ধরে রেখেই মাঠ ছাড়ে উত্তর কোরিয়া।

বিজ্ঞাপন
Advertisement