বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার সোনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় তিনটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং হলদিয়া ইউনিয়নের জুলেখার স্লুইস সংলগ্ন এলাকায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত রাশিদুল আকনের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ায় বিএনপি নেতা নাশির উদ্দিন, সাহাবুদ্দিন ও তাদের সহযোগীরা তাকে এবং আরও কয়েকজনকে মারধর করে দোকান বন্ধ করে দেয়। সেই ঘটনার জের ধরেই দোকানে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

জানা যায়, আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় রাশিদুল আকন মুদি-মনোহরি, আল আমিন ফার্মেসি ও স্বপন দাশ সেলুন পরিচালনা করতেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দুর্বৃত্তরা এসব প্রতিষ্ঠানে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এতে তিনটি দোকান পুড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অপরদিকে একই রাতে হলদিয়া ইউনিয়নের জুলেখার স্লুইস সংলগ্ন এলাকায় লতিফ হাওলাদারের মুদি-মনোহরি ও কীটনাশকের দোকানেও আগুন দেওয়া হয়। ওই দোকানে বিদ্যুতের সংযোগ ছিল না। এতে তার প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে দোকান পুড়িয়ে দিয়েছে। আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী ব্রিজসংলগ্ন এলাকার দোকান মালিক রাশিদুল আকন বলেন, দুর্বৃত্তরা পেট্রল ব্যবহার করে দোকানে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ও আল আমিনসহ কয়েকজন ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নাশির উদ্দিন ও তার সহযোগী সাহাবুদ্দিন, নিজাম আকন ও নেওয়াজ তাদের মারধর করে দোকান বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় দোকানে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নাশির উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কারা দোকানে আগুন দিয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি আরও বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাশিদুল আকন ও আল আমিনের সঙ্গে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা ছিল পারিবারিক বিষয়; এতে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement