কীর্তনখোলা রিপোর্ট

তারেক রহমান এর নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক জ্যেষ্ঠ ও প্রভাবশালী নেতা স্থান না পাওয়ায় বরিশালজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিন ধরে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে জোর আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত অনেকেই জায়গা পাননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঘোষিত মন্ত্রিসভায় বরিশাল বিভাগ থেকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং জহির উদ্দিন স্বপন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আহমদ সোহেল মঞ্জুর, রাজিব আহসান ও মো. নুরুল হক নুর। পটুয়াখালীর আলতাফ হোসেন জোট সরকারের সময়ে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এবারও তাঁকে ঘিরে আলোচনা ছিল।

এদিকে জহির উদ্দিন স্বপনের মন্ত্রীত্ব এবং তরুণ নেতা রাজিব আহসানের প্রতিমন্ত্রী হওয়া ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁদের নিয়ে আলোচনা চলছে জোরেশোরে। তবে নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান না পাওয়া আলোচিত নেতাদের তালিকায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবুগঞ্জের সেলিমা রহমান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পটুয়াখালীর আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অপর উপদেষ্টা বরিশালের মজিবর রহমান সরোয়ার, দলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবদিন এবং জোটের বিজিপি চেয়ারম্যান ভোলার আন্দালিভ রহমান পার্থ।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘আমরা অনেক প্রত্যাশা করেছিলাম। পায়রা বন্দর, তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে পটুয়াখালী কিংবা বরগুনা থেকে আরও প্রতিনিধিত্ব প্রয়োজন ছিল।’ অন্যদিকে বিভাগীয় শহর বরিশাল জেলায় প্রভাবশালী তিন নেতা—সেলিমা, সরোয়ার ও জয়নুল—মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তাঁদের অনুসারীদের মধ্যে হতাশার সুর শোনা যাচ্ছে।

সেলিমা রহমান ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের সময় মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। মজিবর রহমান সরোয়ার সে সময় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল) বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, ‘নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগেরও কয়েকজন স্থান পেয়েছেন। দলের হিসাব-নিকাশ ও প্রত্যাশা সব সময় এক রকম হয় না। মন্ত্রিসভার কিছু পদ এখনো শূন্য রয়েছে। আশা তো রাখাই যায়।’

বিজ্ঞাপন
Advertisement