মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ
রমজানের আজ দ্বিতীয় দিবসে মুমিনের উপলব্ধিতে আসা প্রয়োজন যে, সিয়াম কেবল দেহের উপবাস নয়, বরং এটি আত্মার এক নিবিড় পরিমার্জন। মানুষের ভেতর দুটি সত্তা বিদ্যমান একটি পাশবিক, যা কেবল ভোগবিলাস চায় অন্যটি ঐশ্বরিক বা রূহানি, যা আল্লাহর সান্নিধ্য খুঁজে বেড়ায়। সারা বছর আমাদের পাশবিক সত্তা অর্থাৎ নফস আমাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে, কিন্তু রমজানের এই দিনগুলো আসে সেই নফসকে শিকলবন্দি করতে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, আর যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করে এবং নিজের নফসকে কুপ্রবৃত্তি থেকে নিবৃত্ত রাখে, নিশ্চয়ই জান্নাত হবে তার আবাস। (সূরা আন-নাজিআত: ৪০-৪১)।
তাই রমজানের দীক্ষা হলো নিজের নফস বা কুপ্রবৃত্তির লাগাম টেনে ধরা। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, প্রকৃত বীর সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারিয়ে দেয়, বরং প্রকৃত বীর সেই ব্যক্তি যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (সহীহ বুখারী: ৬১১৪)। রোজা আমাদের সেই আত্মনিয়ন্ত্রণের শক্তি জোগায়। ক্ষুধার তীব্রতায় যখন শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে, তখন মুমিনের রূহ শক্তিশালী হয় এবং সে অনুভব করতে পারে যে, তার অস্তিত্ব কেবল অন্ন আর পানীয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং আল্লাহর জিকির ও সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল।পরিশেষে ২য় রমজানের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের শপথ হোক আমরা যেন কেবল পেটের রোজা নয়, বরং চোখের, কানের এবং জিহ্বার রোজাও পূর্ণাঙ্গভাবে পালন করি। দিনের বেলার এই কৃচ্ছ্রসাধন যেন আমাদের ভেতরের 'আমি'কে চূর্ণ করে বিনয়ী এক মানুষে রূপান্তর করে। মহান আল্লাহ আমাদের এই প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং আমাদের নফসকে পবিত্র করে জান্নাতের পথে চলার তৌফিক দান করুন, আমীন।