মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ

বছর ঘুরে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সওগাত নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। এটি কেবল উপবাস থাকার মাস নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য প্রশিক্ষণকাল। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যেন তোমরা তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করতে পারো (সূরা বাকারা: ১৮৩)। অর্থাৎ রমজানের মূল উদ্দেশ্যই হলো মানুষের পশুবৃত্তিকে দমন করে আধ্যাত্মিক শক্তিকে জাগ্রত করা।

রমজানের প্রধান শিক্ষা হলো ধৈর্য ও সহমর্মিতা। সারা দিন অভুক্ত থাকার মাধ্যমে একজন রোজাদার গরিব ও অনাহারী মানুষের যাতনা অনুভব করতে পারেন, যা তাকে পরোপকারী হতে উদ্বুদ্ধ করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মাসকে ধৈর্যের মাস হিসেবে অভিহিত করেছেন। আর এই ধৈর্য ও তাকওয়া তখনই পূর্ণতা পায় যখন পানাহারের পাশাপাশি চোখের হেফাজত, জিহ্বার হেফাজত এবং অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করা হয়। সহিহ বুখারির এক হাদিসে রাসুল (সা.) কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ ত্যাগ করল না, তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। সুতরাং গিবত, পরনিন্দা এবং অশোভন আচরণ বর্জন করা রোজার অন্যতম প্রধান দাবি।

রমজান যেহেতু কুরআন নাজিলের মাস, তাই এই মাসে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত ও গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। মহান আল্লাহ বলেন, রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎপথের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে (সূরা বাকারা: ১৮৫)। এই মাসকে ইবাদতের বসন্তকাল বলা হয়। ফরজ ইবাদতের পাশাপাশি তরাবিহ, তাহাজ্জুদ এবং শেষ দশকের বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা মুমিনের বড় প্রাপ্তি। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন এবং রাতের ইবাদত সম্পন্ন করে, তার পূর্ববর্তী জীবনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

একইভাবে রমজানে দান-সদকার মাধ্যমে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানো রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ। বর্ণিত আছে যে, রমজান এলে আল্লাহর রাসুল (সা.) প্রবহমান বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হয়ে যেতেন। তাই আমাদের উচিত অভাবী আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খবর নেওয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী জাকাত ও সদকা প্রদান করা। পরিশেষে, রমজানের এই এক মাসের প্রশিক্ষণ যেন আমাদের বাকি এগারো মাসের জীবনধারাকে সুন্দর ও কলুষমুক্ত করে, সেই লক্ষ্যেই আমাদের ব্রতী হতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সহিহভাবে রমজানের আমল করার তৌফিক দান করুন, আমিন।

বিজ্ঞাপন
Advertisement