মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ

আজ পবিত্র মাহে রমজানের ৬ষ্ঠ দিবস। রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত মুমিনের জন্য পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের এক অনন্য সুযোগ। সিয়াম সাধনার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হলো ক্ষুধার কষ্ট অনুধাবনের মাধ্যমে অভাবী মানুষের প্রতি সহমর্মী হওয়া। মুমিনের হৃদয়ে সর্বদা অপর ভাইয়ের প্রতি নিঃস্বার্থ পরোপকারের মানসিকতা জাগ্রত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

ইসলামের দৃষ্টিতে ইবাদত কেবল তসবীহ পাঠ বা উপবাসে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সৃষ্টির সেবা আল্লাহর সন্তুষ্টির অন্যতম মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে (সুনানে তিরমিযী: ৮০৭)। এই হাদিসটি কেবল ইফতার করানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি অন্যের প্রয়োজনে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার এক মহান দর্শন। পবিত্র কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের গুণাবলি বর্ণনা করে বলেছেন, তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবী, এতিম ও বন্দীদের খাবার দান করে (সূরা আদ-দাহর: ৮)।

আমাদের সমাজে অনেক অভাবী মানুষ আছেন যারা আত্মসম্মানের ভয়ে কারও কাছে হাত পাতেন না। পবিত্র কুরআনের বর্ণনামতে, তাদের বাহ্যিক অবস্থা দেখে অনেকে সচ্ছল মনে করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা সাহায্যের মুখাপেক্ষী (সূরা আল-বাকারা: ২৭৩)। এমন আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের গোপনে সাহায্য করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। রমজানের এই সময়ে দান-সদকাহ কেবল নিজের সওয়াব বৃদ্ধি করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতিকেও সুদৃঢ় করে।

মাহে রমজানের এই পুণ্যক্ষণে আমাদের হৃদয়ে পরোপকারের বীজ অঙ্কুরিত হোক। আমরা যেন কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতে মগ্ন না থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতাও সমানভাবে পালন করি। আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে আমরা যেন আল্লাহর রহমতের ভাগিদার হতে পারি। আমাদের রোজা যেন কেবল পানাহার বর্জনের আনুষ্ঠানিকতা না হয়ে বরং নিঃস্বার্থভাবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক জীবন্ত স্মারক হয়ে ওঠে, আমিন।

বিজ্ঞাপন
Advertisement