কীর্তনখোলা ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। ফলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।
২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থীরা ২১৮টি আসনে জয়লাভ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা পেয়েছেন ৬৮টি আসন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, খেলাফত মজলিস-৩টি এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় পেয়েছেন। এর বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, দল ক্ষমতায় গেলে চেয়ারম্যান তারেক রহমানই হবেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের নির্বাচনে তিনি প্রথমবারের মতো অংশ নেন এবং ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬-দুটি আসনেই জয় অর্জন করেন।
সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এবার নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫, স্বতন্ত্র ২৭৩ এবং ৮৩ জন নারী প্রার্থী ছিলেন। এবার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং ১ হাজার ২৩২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। পুলিশ, সেনাবাহিনী, র্যাবসহ ভোটের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১০ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ‘ধানের শীষ’ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের ২২৪ জন প্রার্থী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। আর ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন ৩২ জন প্রার্থী। গণঅধিকার পরিষদের (নূর) ৯০ এবং কমিউনিস্ট পার্টির ৬৫ প্রার্থী মাঠে ছিলেন। ২৭৩ স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ৭৬ জন ‘ফুটবল’ প্রতীক নিয়ে মাঠে ছিলেন। এ ছাড়া অন্যান্য দলের ৫৯৭ প্রার্থী নির্বাচনে ছিলেন।