কীর্তনখোলা ডেস্ক
বাংলাদেশে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এবারই প্রথম জামায়াতের কোনো আমির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিনি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরবর্তীতে দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়ে এবং এরপর তাঁর স্ত্রী ও কন্যাকে সঙ্গে নিয়ে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান। সাধারণত একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে আগে শহীদ মিনারে উপস্থিত থাকতে দেখা যেত প্রধানমন্ত্রীকে। তবে এবার রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে চলে যাওয়ার পর শহীদ মিনারে এসে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেন। তবে জাতীয় পার্টির একদল নেতাকর্মী ব্যানার নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে একটি রাজনৈতিক দলের একটি ইউনিটের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়েন।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের এদিন বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়র শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে আবুল বরকত, আব্দুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমেদ এবং আবদুল জব্বারসহ অনেকে শহীদ হন। দিনটি বাংলাদেশে ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। পরে ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ একে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে বাংলাদেশের ভাষা শহীদ দিবস আন্তর্জাতিক মাত্রা লাভ করে।