কীর্তনখোলা ডেস্ক

নিশ্চয়ই এটি এক অদ্ভুত কাকতালীয় ঘটনা। দুই দিন আগে ইফতারের সাইরেন বাজতেই সিরিজের প্রথম ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল। ঠিক ৪৮ ঘণ্টা পর, শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দর্শকেরা ইফতারের পর পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। এমন সময় রিশাদের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিম আউট হতেই পাকিস্তান অলআউট হয়ে যায়, আর ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ইফতারের আজানের ধ্বনি শোনা যায় মিরপুরে! সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান ১১৪ রানে অলআউট হয়েছিল, আর বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ম্যাচে একই স্কোরে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দেয় পাকিস্তান।প্রথম ম্যাচে যে দলটি ১১৪ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল, সেই পাকিস্তান দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে ফেলে ২৭৪/১০। শুকনো ও কঠিন পিচে এই রান কিছুটা প্রত্যাশিতই ছিল। ৪৮ ঘণ্টা আগে বাংলাদেশের বোলিং তাণ্ডবে বিপর্যস্ত পাকিস্তান কীভাবে এমনভাবে ঘুরে দাঁড়ালো—তার কৃতিত্ব দিতে হয় ওপেনার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডারের মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪) ও সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেটে ৭৮ বলে ১০৩ এবং চতুর্থ উইকেটে ১১৫ বলে ১১৯ রানের জুটি বড় স্কোর গড়তে সহায়ক হয়েছে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের রান ছিল ৮৩/০, ওভারপ্রতি ৮.৩০। তাসকিন ও নাহিদ রানার ব্যয়বহুল প্রথম স্পেলের কারণেই শুরুতে বাংলাদেশের বোলিং ছন্দ হারায়। তাসকিন ২ ওভারে উইকেটহীন থেকে দেন ২০ রান, আর নাহিদ ৩ ওভারে উইকেট না নিয়ে খরচ করেন ৩২ রান। প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের বন্যা বইয়ে পাকিস্তানি ব্যাটারদের চাপে ফেলেছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতে একটি করে উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ধার দেখা যায়নি; তার প্রথম স্পেল ছিল ব্যয়বহুল (৩-০-৩২-০), যেখানে তৃতীয় ওভারেই দেন ২০ রান। পাকিস্তানের শুরু দেখে তিনশর বেশি রানের সম্ভাবনা জেগেছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রান তোলার গতি সেই দিকেই ছিল। তবে শেষ দিকে রিশাদের (১.৩-০-৫-২) ও মোস্তাফিজের (২-০-৮-১) নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান থামে ২৭৪ রানে। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে হারায় শেষ ৫ উইকেট। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছিল ভয়ংকর, কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১), নাহিদ (১০-০-৫৯-১) ও মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) ছিলেন গড়পড়তা। ব্যতিক্রম ছিলেন মিরাজ (১০-২-৩৪-২) ও রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)। প্রথম ম্যাচেই ছিল মাজ সাদাকাতের ওয়ানডে অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের ইনিংসের হতাশা কাটাতে দ্বিতীয় ম্যাচে শুরু থেকেই টি-২০ মেজাজে খেলেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন তিনি এবং তাসকিনের এক ওভারে মারেন দুইটি ছক্কা, যার একটি ছিল নো বলে পুল শট। নাহিদের প্রথম ওভারে তার একটি ছক্কার দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার। ৩১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর ৮৫/০, যার মধ্যে তার অবদান ছিল ৬৩ রান। পরে মিরাজের বলে স্কুপ করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ক্যাচ দেন; ততক্ষণে ৪৬ বলে ৬ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেন ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে। ৫০ বলে ফিফটি করা সালমান আগাকে কৌশলে ফেরান মিরাজ। রিজওয়ানের সঙ্গে শতরানের জুটি গড়লেও একটি নাটকীয় রান আউটে বিদায় নিতে হয় তাকে। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগেই ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়ম মেনেই আউট ঘোষণা করা হয়। আউট হয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি এবং মাঠ ছাড়ার সময় ক্ষোভ দেখান। ২৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ৬.৩ ওভার শেষে বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় স্কোর ছিল ২৭/৩। পরে খেলা পুনরায় শুরু হলে ৩২ ওভারে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪৩ রান। বাকি ২৫.৩ ওভারে ২১৬ রান করতে হতো, যা টি-২০ ধাঁচের ব্যাটিং দাবি করছিল। লিটন দাস আক্রমণাত্মক শুরু করলেও মাজ সাদাকাতের স্পেলে (৫-০-২৩-৩) আউট হন। এরপর কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ৭৩/৩ থেকে দ্রুত ১০১/৭ হয়ে গেলে ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে যায়। শেষ দিকে হারিস রউফের দুর্দান্ত স্পেলে (২.৩-০-৬-৩) দ্রুত শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। অবশেষে পাকিস্তান প্রথম ম্যাচের ১১৪ রানের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়, বাংলাদেশকে একই স্কোরে অলআউট করে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement