কীর্তনখোলা ডেস্ক

এএফসি উইমেন’স এশিয়ান কাপে শুক্রবার শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এশিয়ার সেরা দলগুলোর এই আসরে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা কেবল অংশগ্রহণের জন্য আসেনি—ম্যাচের আগে এমনটাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার। বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান জানালেও নিজের খেলোয়াড়দের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেন বাটলার। তিনি বলেন, “তারা (উত্তর কোরিয়া) টেকনিক্যাল দিক থেকে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রতিভাবান দল। আমি বাস্তববাদী মানুষ, জানি এই ম্যাচ জেতা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা রক্ষণে গুটিয়ে বসে থাকব না, লড়াই করব। নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রেখে সমর্থকদের হৃদয় জিততে চাই।” খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ওয়ার্কলোড কমানোর লক্ষ্যে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে একাদশে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়েছেন কোচ। কৌশলগত বিবেচনায় এবং পরবর্তীতে পার্থে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচকে সামনে রেখে এসব পরিবর্তন আনা হতে পারে। প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলতে এসে কঠিন গ্রুপে পড়েছে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১১২ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ। গ্রুপের অন্য তিন দল—চীন (১৭তম), উত্তর কোরিয়া (৯ম) ও উজবেকিস্তান (৪৯তম)—র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে। তাই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখার চেয়ে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের উন্নতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন বাটলার। তিনি বলেন, “আমরা এখানে ভাগ্যের জোরে আসিনি, নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করেই জায়গা করে নিয়েছি। এএফসির মান সাফের চেয়ে অনেক উন্নত। এখানকার মাঠ, সুবিধা এবং পেশাদার পরিবেশ আমাদের মেয়েদের জন্য দারুণ শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। আমি চাই তারা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে খেলুক।” ঢাকায় থাকাকালীন ভোরে অনুশীলনের যে অভ্যাস ছিল, সিডনিতেও সেটি বজায় রেখেছেন বাটলার। প্রতিদিন সকাল ৯টায় অনুশীলনের কারণও ব্যাখ্যা করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠায় বিশ্বাস করি। ঢাকায় আমরা ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে কাজ শুরু করি, কারণ আমাদের সুযোগ-সুবিধা সীমিত। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শেষ করতে হয়। প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হচ্ছে।” চীনের বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে নজরকাড়া পারফরম্যান্সের পর গোলকিপার মিলির প্রশংসাও আলাদাভাবে করেন বাংলাদেশের কোচ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে আফঈদা-মিলিদের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায়। চীনের বিপক্ষে দারুণ ফুটবল উপহার দেওয়ার পর এই ম্যাচে ড্র বা ইতিবাচক ফলাফল বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে।

বিজ্ঞাপন
Advertisement