ভাণ্ডারিয়া প্রতিনিধি
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির (জেপি) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় জেপির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যানসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করেছেন। একযোগে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর দলবদল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৯টায় চরখালী বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বলের নেতৃত্বে এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা নবাগতদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল কবির লাবু, পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খান নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত, ভাণ্ডারিয়া বিএনপির সভাপতি ও পিরোজপুর-২ আসনের ধানের শীষে মনোনীত প্রার্থী আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু প্রমুখ। বিএনপিতে যোগদানকৃত অন্যরা হলেন- জেপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, সিনিয়র সহ সভাপতি ও নদমূলা শিয়ালকাঠী ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল কবির বাবুল তালুকদার, জাতীয় মহিলা পার্টির সভানেত্রী ও সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আক্তার, সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন সিকদার, পৌর জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুল কিবরিয়া ফরিদ মল্লিক, জাতীয় যুবসংহতির সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির সাবেক সভাপতি মনির সরদার, ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কাদের সরদার, ফকরউদ্দিন জালাল মিয়া জামাল উদ্দীন স্বপন মিয়াসহ প্রায় ৫০ জন বর্তমান ও সাবেক ইউপি সদস্য এবং সহস্রাধিক নেতাকর্মী। জেপির বিশাল কর্মী বাহিনী বিএনপিতে যোগদানের ফলে ভাণ্ডারিয়া জেপির সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য যে, ভাণ্ডারিয়া দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির (জেপি) একক আধিপত্যের এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল; কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের বিশাল একটি অংশের এই প্রস্থান দলটির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যোগদান অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনে বর্তমান জাতীয় ও স্থানীয় প্রেক্ষাপটে জেপির রাজনীতি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘকাল দলটির সঙ্গে যুক্ত থেকেও তারা এক ধরনের রাজনৈতিক স্থবিরতা অনুভব করছিলেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি বড় এবং গণমুখী রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা থেকেই তারা বিএনপির পতাকাতলে আসার সিদ্ধান্ত নেন।