কীর্তনখোলা ডেস্ক
থাইল্যান্ডকে হারানোর সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপই কি এখন সবচেয়ে বেশি পোড়াচ্ছে বাংলাদেশকে? ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হারের সেই ম্যাচটি নিশ্চয়ই আফসোস বাড়াচ্ছে। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩-২ হার এবং চীনের কাছে পরাজয়ের পরও কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকে ছিল বাংলাদেশের। তবে শেষ সুযোগটিও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে তারা। থাইল্যান্ডের ননথাবুরিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আজ ভিয়েতনামের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে যায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৪৯ মিনিটে গোলরক্ষক মিলির ভুলের সুযোগ নিয়ে ভিয়েতনামের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন থি থু লিন এনগুয়েন। ভাগ্য নির্ধারণ করা সেই গোলের কোনো জবাব দিতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে শেষ হয়ে যায় আফঈদা খন্দকারদের শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর শেষ ম্যাচে ড্র করলেও কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বেঁচে থাকত। শেষ আট নিশ্চিত করতে তিন গ্রুপের তৃতীয় স্থান পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকতে হতো। কিন্তু তিন ম্যাচেই হেরে সেই সমীকরণ মেলাতে পারেনি লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা এবং গ্রুপ ‘এ’-এর তলানিতে থেকেই আসর শেষ করে। ভিয়েতনামের বিপক্ষে বল দখলে খুব বেশি পিছিয়ে ছিল না বাংলাদেশ। তবে আক্রমণভাগ ছিল অগোছালো। পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট নিতে পেরেছে তারা। বিপরীতে ভিয়েতনাম ১০টি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রেখে সেটিই গোলে পরিণত করে। ম্যাচের ৮ মিনিটে প্রথম সুযোগ তৈরি করে বাংলাদেশ। উমেহলা মারমা বাঁ দিক থেকে নগুয়েন থি থুই লিনকে কাটিয়ে বক্সে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে তাঁর শট দ্রুত ব্লক করেন ডিফেন্ডার নগুয়েন থি থুং। ১৩ মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ আসে। সাগরিকা মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে একা গোলরক্ষকের মুখোমুখি হলেও ঠিকভাবে শট নিতে পারেননি। তার দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক। এরপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালায় ভিয়েতনাম। ১৮ ও ২১ মিনিটে এনগুয়েন থির দুটি শটই ক্রসবারের ওপর দিয়ে যায়। ২৮ মিনিটে তার বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে এগিয়ে যায় ভিয়েতনাম। মাঝমাঠের কাছ থেকে নেওয়া একটি ফ্রি কিকে বল ঠিকভাবে ধরতে ব্যর্থ হন মিলি। তার হাত ফসকে বল পেছনে চলে গেলে ডিফেন্ডার এনগুয়েন থি ফাঁকা জালে আলতো ছেঁায়ায় বল জড়িয়ে দেন। ৭০ মিনিটে সমতা ফেরানোর বড় সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। মোমিতা খাতুনের ক্রসে হেডে গোল করতে ব্যর্থ হন সাগরিকা। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও পেয়েছিল ভিয়েতনাম, তবে আর গোল হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলেই নির্ধারিত হয় ম্যাচের ফলাফল।